মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন

Logo
সংবাদ শিরোনাম :
লন্ডনের পথে প্রধানমন্ত্রী অবশেষে সিঙ্গাপুরে গেলেন সুবীর নন্দী মোশাররফ করিমের ফুল এইচডি’র ডাবল সেঞ্চুরি শমী কায়সারের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা ফিডব্যাকের চার দশক পূর্তিতে জমকালো কনসার্ট আজ ওয়ার্নার-রশিদের নৈপুণ্যে জয়ে ফিরল হায়দরাবাদ ওয়ার্নার ঝড়ে হায়দরাবাদের ২১২ বুধবার সকালে দেশ ছাড়বে টাইগাররা আইপিএল ছাড়ার আগে ওয়ার্নারের আবেগঘন বার্তা নতুন জার্সির হাতা কিংবা কলারে যোগ হতে পারে লালের ছোঁয়া কলা মানেই ম্যাজিক! কিডনি সমস্যা দূর করে এলাচ রাগ যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন কুড়িগ্রামে জলাশয়-পুকুর সংস্কারের নামে চলছে ‘পুকুর চুরি’ আইএস’র দায় স্বীকারের বিষয়টি পরীক্ষা করা হচ্ছে : ডিএমপি কমিশনার
গ্রীনলাইনের ম্যানেজারকে হাইকোর্টে তলব

গ্রীনলাইনের ম্যানেজারকে হাইকোর্টে তলব

রাজধানীতে গ্রীনলাইন পরিবহনের একটি বাসের চাপায় পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে জানতে পরিবহনটির ম্যানেজারকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার মধ্যে তাকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। অন্যথায় গাড়ি জব্দ (সিজ) করে টাকা দেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন আদালত।

এ সংক্রান্ত রুলের শুনানিতে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ আদেশ দেন।

রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা দেয়ার আদেশ বাস্তবায়ন সম্পর্কে আজ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়ার দিন ধার্য ছিল। আদালতে আজ বিষয়টি উঠলে রিট আবেদনকারীর আইনজীবী খন্দকার শামসুল হক রেজা বলেন, গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। সাড়াও দেয়নি। তাদের ব্যক্তিগত উপস্থিতি দরকার।

rassel-sarkar

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার শামসুল হক রেজা। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি। অন্যদিকে গ্রিনলাইন পরিবহনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. অজি উল্লাহ।

রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ গত ১২ মার্চ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের দেয়া ক্ষতিপূরণের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে গ্রীনলাইন কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। গত ১৪ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত সেদিন হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। একই সঙ্গে গ্রীন লাইন কর্তৃপক্ষের করা আবেদনটি ৩১ মার্চ আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন। পরে আপিল বিভাগে গত ৩১ মার্চ আবেদনটির ওপর শুনানি হয়।

বেপরোয়া বাসের চাপায় পা হারানো রাসেলকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ৫০ লাখ টাকা দেয়ার পাশাপাশি রাসেলের অন্য পায়ে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে এবং তার কাটা পড়া পায়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির কৃত্রিম পা লাগানোর খরচও তাদের বহন করতে বলা হয়। এ জন্য দুই সপ্তাহ সময়ও বেঁধে দেন আদালত।

৩১ মার্চ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে গ্রীন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষ। তাদের আপিলটি খারিজ হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিপূরণের ওই অর্থ দিতেই হবে রাসেল সরকারকে।

rassel-sarkar

উল্লেখ্য, গত বছর ২৮ এপ্রিল মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে কথা কাটাকাটির জেরে গ্রীনলাইন পরিবহনের বাসচালক প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারের (২৩) ওপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে দেন। এতে রাসেলের দেহ থেকে বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর অস্ত্রোপচার করে তার বাম পা কেটে ফেলা হয়। এ ঘটনায় রাসেলের বড় ভাই আরিফ সরকার বাসচালক কবির মিয়ার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় ওইদিনই মামলা করেন।

পা হারানো রাসেলের বাবার নাম শফিকুল ইসলাম, গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে। ঢাকার আদাবর এলাকার সুনিবিড় হাউজিং এলাকায় তার বাসা। ওই দুর্ঘটনার পর সরকারি দলের সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি আইনজীবী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি গত বছরের ১৪ মে হাইকোর্টে ক্ষতিপূরণ চেয়ে একটি রিট আবেদন করেন।

রিটের শুনানিতে চলতি বছরের ৬ মার্চ রাসেল আদালতকে বলেছিলেন, পা হারানোর পর এখন পর্যন্ত গ্রীনলাইন কর্তৃপক্ষ তাকে একটি টাকাও দেয়নি। খোঁজখবর নেয়নি, চিকিৎসার ব্যয়ও বহন করেনি। ওই রিটের শুনানি নিয়ে রাসেলকে কেন এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

সংবাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *