মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন

Logo
সংবাদ শিরোনাম :
লন্ডনের পথে প্রধানমন্ত্রী অবশেষে সিঙ্গাপুরে গেলেন সুবীর নন্দী মোশাররফ করিমের ফুল এইচডি’র ডাবল সেঞ্চুরি শমী কায়সারের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা ফিডব্যাকের চার দশক পূর্তিতে জমকালো কনসার্ট আজ ওয়ার্নার-রশিদের নৈপুণ্যে জয়ে ফিরল হায়দরাবাদ ওয়ার্নার ঝড়ে হায়দরাবাদের ২১২ বুধবার সকালে দেশ ছাড়বে টাইগাররা আইপিএল ছাড়ার আগে ওয়ার্নারের আবেগঘন বার্তা নতুন জার্সির হাতা কিংবা কলারে যোগ হতে পারে লালের ছোঁয়া কলা মানেই ম্যাজিক! কিডনি সমস্যা দূর করে এলাচ রাগ যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন কুড়িগ্রামে জলাশয়-পুকুর সংস্কারের নামে চলছে ‘পুকুর চুরি’ আইএস’র দায় স্বীকারের বিষয়টি পরীক্ষা করা হচ্ছে : ডিএমপি কমিশনার
কুড়িগ্রামে জলাশয়-পুকুর সংস্কারের নামে চলছে ‘পুকুর চুরি’

কুড়িগ্রামে জলাশয়-পুকুর সংস্কারের নামে চলছে ‘পুকুর চুরি’

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য জলাশয় ও পুকুর সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নামমাত্র সংস্কার কাজ করে মোটা অংকের বিল তুলে নিচ্ছে ঠিকাদাররা। কিছু অসাধু কর্মকর্তা আর কর্মচারীদের যোগসাজসে চলছে এমন অনিয়ম। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।

কুড়িগ্রামে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রংপুর বিভাগে মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্প নামে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। জলাশয় সংস্কার ও পুকুর পুনঃখননের কথা বলে দায়সাড়াভাবে মাটি খুঁড়ছে ঠিকাদারের লোকজন। সংষ্কার কাজ সঠিকভাবে না হওয়ায় মাছ চাষ নিয়ে শঙ্কার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পরার আশঙ্কা স্থানীয় জেলেদের। এতে করে মাছ চাষে উন্নয়নের নামে সরকারের দেয়া কোটি কোটি টাকা জলে যেতে বসেছে।

অধিকাংশ প্রকল্প এলাকাগুলোতে সাইনর্বোড না থাকায় সাধারণ মানুষ কাজ সম্পর্কে কিছুই বলতে পারছেন না। কর্মকর্তাদের সঠিক তদারকি না থাকা এবং অনেকের যোগসাজসে দিনে দুপুরে ঘটছে সংস্কার কাজের নামে পুকুর চুরির ঘটনা। জলাশয় ও পুকুরের তলদেশ সমান না থাকায় মাছ চাষ নিয়ে রয়েছে জেলেদের মধ্যে শঙ্কা। বাধ ঘেঁষে জলাশয় সংস্কার করায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে বাঁধগুলো হুমকির মুখে পড়ছে। বিভিন্ন স্থানে জলাশয় সংস্কারের সময় পাশের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফুলবাড়ি উপজেলার সাবেক ছিটমহল দাশিয়ারছড়াতে পুকুর সংস্কার করা হয়েছে। কোনো রকমে মাটি খুঁড়ে পাড় বাঁধা হয়েছে। ঘাসযুক্ত পুকুরের তলদেশে না খুঁড়েই ঢালের কাজ শেষ করা হয়েছে। উপজেলার অন্য প্রকল্প এলাকায় নেই কোনো সাইনবোর্ড। এই প্রকল্প এলাকায় কর্মকর্তা বা ঠিকাদারের লোকজনকে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে যেনতেনভাবেই চলছে সংস্কার কাজ।

ফুলবাড়ি দাশিয়ার ছড়ার কামালপুরের বাসিন্দা মকবুল, মজিবরসহ অনেকেই বলেন, এখানে পুকুর সংস্কারের নামে যেন পুকুর চুরি হচ্ছে। সরকারের দেয়া উন্নয়নের নামে ঠিকাদাররা তাদের উন্নয়ন করছে। এতে গরিব জেলেদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না।

এছাড়াও ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের খোঁচাবাড়ি প্রকল্প এলাকার হাবিব, আজগর, মোসলেম উদ্দিন বলেন, এখানে কত টাকার কাজ হচ্ছে আমরা স্থানীয়রা জানি না। খননের সময় ওয়াবদা বাঁধের কিছু অংশ এমনভাবে কেটে ফেলা হয়েছ যে আগামী বন্যায় হুমকির মুখে পড়তে পারে বাঁধ। অফিসার বা ঠিকাদারের কেউ এখানে আসে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, কাগজে-কলমে মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যরা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী হলেও বাস্তবে তার ভিন্ন চিত্র। কাগজ-কলমে মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যদের দেখিয়ে প্রকল্পে কাজ করছেন কিছু প্রভাবশালী ঠিকাদার। এদের মধ্যে প্রদীপ, সাজু, ভানু মেম্বার, ইকবাল, মহাব্বত, শেখ কামাল, দুলাল,রিজু, ওহিজল হক আব্দুল ওয়াহাব, সবুজ এই ঠিকাদাররা উপর মহল ম্যানেজ করে কাজ নিয়ে আসে। তারাই মাঠ পর্যায়ে এই কাজ গুলো করে থাকেন। গরিব জেলেদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না থাকায় এসব কাজ অলিখিত ঠিকাদাররাই করে থাকেন।

প্রকল্পের বিষয়ে কোনো ঠিকাদার কথা না বললেও খনন কাজের শ্রমিক উজ্জল ও মজিবর বলেন, আমাদেরকে ৭ ফুট বাঁধ করার কথা বলেছে ঠিকাদার ভানু। আমরা সে হিসেবেই কাজ করছি।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে জেলা মৎস্য বিভাগের অধীনে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ৪ কোটি ১০ লাখ ৮৯ হাজার ৮০০টাকা এবং রংপুর বিভাগে মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের সংস্কার কাজে বরাদ্দ ২ কোটি ৫০ হাজার ৭০০ টাকা। প্রকল্পের কাজ ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়ে মার্চে শেষ হবার কথা থাকলেও এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। দুটি প্রকল্পের আওতায় জেলার ৭টি উপজেলায় ৫২টি স্কিমে প্রায় এক হাজার জন সুবিধাভোগীর ৩৬ দশমিক ৫০২ হেক্টর জলাশয় এবং পুকুরে সংস্কার কাজ চলছে। এই প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে জেলায় প্রায় অতিরিক্ত ১৫০ মেট্রিক টন মাছ চাষ করা সম্ভব।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, কোথাও কোথাও অনিয়ম হওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে সেগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *