রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
সুন্দরগঞ্জে ফাস্ট কিউর ডায়াগনস্টিক এন্ড জেনারেল হাসপাতালের উদ্ধোধন সুন্দরগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: পানিবন্দি সাড়ে ১২ হাজার পরিবার ব্রহ্মপুত্র তিস্তা ও ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার উপরে: পানি বৃদ্ধি অব্যাহত এমপিওতে অগ্রাধিকার পাচ্ছে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফুলছড়িতে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত ফুলছড়িতে বন্যার পূর্ব প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ত্রিমোহনী-ফুলছড়ি সড়কটির বেহাল দশা: পথচারীদের দুর্ভোগ রামচন্দ্রপুর পল্লী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জনবল সংকটে চিকিৎসা সুবিধা বঞ্চিত মানুষ গাইবান্ধা থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ: যাত্রীদের দুর্ভোগ গাইবান্ধায় ১০৩ টাকায় ১৪৪ জন পুলিশের চাকরি পেল যাযাবর সাপুড়ে বহর যারা নিজস্ব ঐতিহ্যকে লালন করে অব্যাহত রেখেছে জীবন জীবিকা গাইবান্ধায় বাম জোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সুন্দরগঞ্জে আবার তিস্তার ভাঙন ও পানি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি ঐতিহ্যবাহী ফুলছড়ি হাটে পাবলিক টয়লেটের উদ্বোধন এরশাদ লাইফ সাপোর্টে সাদুল্যাপুরে রংপুর মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পূনঃখননের কাজ সমাপ্ত নাকাইহাটের নলেয়া নদীর উপর সেতু না থাকায় পথ চলাচলে দুর্ভোগ গোবিন্দগঞ্জে ট্রাকচাপায় পথচারীর মৃত্যু বিশ্বে কমলেও, ধান উৎপাদন বাড়ছে বাংলাদেশে বাড়লো অনলাইন গণমাধ্যম নিবন্ধন আবেদনের সময়
রামচন্দ্রপুর পল্লী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জনবল সংকটে চিকিৎসা সুবিধা বঞ্চিত মানুষ

রামচন্দ্রপুর পল্লী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জনবল সংকটে চিকিৎসা সুবিধা বঞ্চিত মানুষ

স্টাফ রিপোর্টারঃ জনবল সংকট ও চিকিৎসক না থাকায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার বালুয়া বাজার সংলগ্ন রামচন্দ্রপুর পল্লী স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নানা সমস্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। ফলে ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট এলাকার দরিদ্র অসহায় মানুষ চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ ও যত্নের অভাবে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিশাল অবকাঠামো ও আবাসিক ভবনগুলোর বেহাল অবস্থা।

জানা গেছে, রামন্দ্রপুর ইউনিয়নের পার্বর্তীপুর মৌজায় ৬ একর জমির উপর পল্লীর অসহায় মানুষদের চিকিৎসাদানের লক্ষ্যে সাবেক পাকিস্তান আমলে একটি প্রকল্পের আওতায় ১০ বেডের এই হাসপাতালটি স্থাপন করা হয়। সে সময় ওই হাসপাতালে দু’জন চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদে ২৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগদান করা হয়। স্বাধীনতার পর থেকে এ হাসপাতালটিতে স্বাস্থ্য বিভাগের নজর কমতে থাকে। ফলে ক্রমান্বয়ে হাসপাতালটি থেকে রোগীরা চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে শুরু করে। ঢিমেতালে চলতে থাকে এর কার্যক্রম। ২০০৯-২০১০ অর্থ বছর পর্যন্ত হাসপাতালে যথারীতি বেড চালু থাকলেও চিকিৎসকের অভাবে এরপর অভ্যন্তরীণ বিভাগ বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে রোগী ভর্তি বন্ধ হয়ে যায়। বেডগুলো এখন শূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে পলাশবাড়ি ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার একাংশসহ সদর উপজেলার হাজার হাজার মানুষ ওই হাসপাতালটিতে জরুরী চিকিৎসার ব্যাপারে নির্ভরশীল ছিল। এখন তারা চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ১০ বেডের এই হাসপাতালটিতে এখন কোন রোগী ভর্তি হয় না। এখানে এখন শুধু বহিঃ র্বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হলেও অপ্রয়োজনীয় অনেক স্টাফ এখনও রয়েছে বহাল তবিয়তে।

সরেজমিনে পরিদর্শনে জানা যায়, এই পল্লী স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে দু’জন মেডিকেল অফিসারসহ পদ রয়েছে ১৯টি। কিন্তু ২ জন মেডিকেল অফিসারের পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বর্তমানে একজন উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার এবং একজন ফার্মাসিস্ট এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির বহিঃর্বিভাগে আগত রোগীদের চিকিৎসা প্রদান ও প্রয়োজনীয় প্রেসক্রিপশনসহ ওষুধ দিচ্ছেন। তদুপরি এ দু’জন কর্মকর্তাও নিয়মিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপস্থিত থাকেন না। পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, তাদের অনুপস্থিতিতে ওয়ার্ডবয় ও অফিস সহায়ক চিকিৎসা প্রদানের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

জানা গেছে, এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বাকি ১৭টি পদের মধ্যে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ডেপুটেশনে দেয়া হয়েছে ১২ জনকে। শুধুমাত্র ৫ জন মাত্র এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত রয়েছেন। তারা হলেন উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আমিনুল ইসলাম, একজন ফার্মাসিস্ট মাহবুবর রহমান, অফিস সহায়ক আফরিন নাহার, ওয়ার্ডবয় সাজেদা খাতুন এবং সুইপার ময়না। বাকি ১২ জনের মধ্যে চারজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও দুই সহকারি নার্স ডেপুটেশনে কর্মরত রয়েছেন গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালে। তারা হচ্ছেন সহিদা খাতুন, নাজমা পারভীন, সুরাইয়া বেগম ও শাহিনা সুলতানা এবং সহকারি নার্স আনোয়ারা বেগম ও আব্দুস সামাদ। এছাড়া অপর ছয়জন ল্যাব টেকনিশিয়ান ফাতেমাতুজ জহুরা, অফিস সহায়ক কোহিনুর বেগম ও একরামুল হক, ওয়ার্ডবয় এরশাদ হোসেন, কুক হুসনে আরা ও সুইপার শ্রীমতি মালাকেও গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালে ডেপুটেশনে দেয়া হয়েছে।

বিশাল আয়তন জুড়ে প্রতিষ্ঠিত রামচন্দ্রপুরের স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে আশেপাশের পল্লী এলাকার দরিদ্র মানুষদের মধ্যে এখনও প্রতিদিন গড়ে ৬৪ জন থেকে ১৫০ জন রোগী বহিঃর্বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। কিন্তু চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় জনবল সংকট থাকায় এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আগত রোগীরা সুষ্ঠু চিকিৎসা পাচ্ছেন না এবং প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র তাদেরকে দেয়া হচ্ছে না।

তদুপরি এই হাসপাতালটিতে এখন জরাজীর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে। হাসপাতালের মাঠে চড়ছে গরু, ছাগল ও ভেড়া। পার্শ্ববর্তী লোকজন মাঠে ধান, খড় এবং ঘুটে শুকাচ্ছে। ফলে বর্তমানে এই চিকিৎসা কেন্দ্রটির একেবারেই বেহাল অবস্থা। অপরদিকে হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারসহ অন্যান্য অবকাঠামো অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকায় সেগুলোর এখন জরাজীর্ণ দশা। অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া প্রায় জন শূন্য অবস্থার কারণে রাতে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে সমাজ বিরোধী লোকজনের আড্ডাখানায় পরিণত হয়। অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগও রয়েছে প্রচুর।

সংবাদটি শেয়ার করুন




Privacy Policy » Contact US » Terms of Use